মাদকের টাকায় অবৈধ সম্পদ, দুদকের মামলায় একজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রূপম চৌধুরী (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল একই আদালত মাদক সংশ্লিষ্ট আরেকটি মামলায় রূপম চৌধুরী ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী চৌধুরীকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রূপম চৌধুরী, যিনি রূপন বা রিপন নামেও পরিচিত, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি নগরের হালিশহর মধ্যম নাথপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদের তথ্য গোপন করেন। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার সম্পদ আড়াল করার পাশাপাশি ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

দুদকের আইনজীবী জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আদালত এ দণ্ড দেন।

রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুদক বিষয়টি তদন্তে নেয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে রূপম চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ মেলে। এরপর ২০২১ সালে তাদের পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী জমা দিতে বলা হয়।

রূপম নির্ধারিত সময়ে বিবরণী জমা দিলেও যাচাই-বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের বিষয়টি সামনে আসে। তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মাদক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুলগাঁও এলাকায় জমি ও একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্যও গোপন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top