‘ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি মামলা’— চীনে থেকেও আদালতে সাক্ষ্য দিলেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত। খাগড়াছড়ির একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি/পে-অর্ডার ব্যবহার করে কার্যাদেশ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে চীনে অবস্থানরত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভার্চুয়ালি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালতের সমনের পর বিদেশে অবস্থান করেও অনলাইনে সাক্ষ্য দেওয়ায় মামলার বিচার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মিজানুর রহমানের আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। শুনানিতে দুদকের বিশেষ পিপি, আসামিপক্ষের আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনলাইনে অংশ নেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আসামিদের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহিদুল করিম আজ বুধবার (২২ জুলাই) চাটগাঁ নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার ‘চন্দ্রকাপা-বান্দরসিংপাড়া রাস্তায় খালেক মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন ছড়ার ওপর ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, খাগড়াছড়ি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার পরস্পরের যোগসাজশে একটি ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি/পে-অর্ডার তৈরি করেন। পরে সেটিকে বৈধ দলিল হিসেবে দরপত্রের সঙ্গে দাখিল করে কার্যাদেশ গ্রহণের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা অর্জন করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ২০১৫ সালের ৪ মার্চ দুদকের তৎকালীন উপ-পরিচালক মো. সফিকুর রহমান ভূঁইয়া বাদী হয়ে মাটিরাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
মামলায় তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র সাবেক ব্যবস্থাপক করুনা বিশ্বাস চাকমা, সাবেক কর্মকর্তা উদয়ন কর দেওয়ান, রিপ এন্টারপ্রাইজের মালিক মংসুইপ্রু চৌধুরী (অপু) এবং ঠিকাদার কপি রঞ্জন ত্রিপুরাকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

১১ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।

বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নজরুল ইসলাম চীনের Southwest University of Political Science and Law (SWUPL)-এ পিএইচডি গবেষণায় অধ্যয়নরত। বৈদেশিক অধ্যয়ন ছুটিতে থাকা অবস্থায় আদালতের সমন পাওয়ার পর তিনি দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহিদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভার্চুয়ালি সাক্ষ্য দিতে সম্মতি জানান।

দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহিদুল করিম চাটগাঁ নিউজকে বলেন, বিদেশে অবস্থানরত একজন তদন্ত কর্মকর্তার ভার্চুয়াল সাক্ষ্য গ্রহণের এই উদ্যোগ বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বলে জানান তিনি।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top