চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: দেশে গ্যাস সংকটের যে আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছিল সেটি অবশেষে সত্যি হলো। কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে ধস নেমেছে। তিন দিনের ব্যবধানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমেছে প্রায় ৩২ কোটি ঘনফুট। এতে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহও কমেছে প্রায় ২৯ কোটি ঘনফুট। ফলে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের বাসা বাড়িতে কমে গেছে গ্যাসের চাপ, বিপাকে পড়েছেন গৃহিনীরা।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে এলএনজি সরবরাহ নেমে এসেছে ৬৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে। ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় এর পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ তিন দিনের ব্যবধানে সরবরাহ কমেছে ৩১ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।
এ সময় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ২৫৯ কোটি ১০ লাখ থেকে কমে ২৩০ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট হয়েছে। দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ অবশ্য কিছুটা বেড়ে ১৫৮ কোটি ৮০ লাখ থেকে ১৬১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট হয়েছে।
এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় সরবরাহের ওপর চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ঘাটতি হলে তেলভিত্তিক উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। শিল্পে গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তবে কোথায় কতটা সরবরাহ কমেছে, সে তথ্য পেট্রোবাংলা জানায়নি।
পেট্রোবাংলার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাময়িক এই পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের অনিবার্য অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে এলেই এলএনজি স্থানান্তর ও গ্যাস সরবরাহের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ‘উত্তাল সাগরে ভিড়তে পারছে না জাহাজ, আবারও গ্যাস সংকটের শঙ্কা’ শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে চাটগাঁ নিউজ। যেখানে উল্লেখ করা হয়, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ভিড়তে পারছে না কোনো জাহাজ। ফলে আবারও গ্যাস সরবরাহ কমে সংকট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। সেই আশঙ্কাই অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার সত্যি হলো।
এদিকে গত ২১ জুলাই থেকে একেক সময়ে একেক রকম সংকটে ঘুরপাক খাচ্ছে গ্যাস সরবরাহ। ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্যাস সংকটের সূত্রপাত। কয়েক সপ্তাহ পরে এফএসআরইউ মেরামত হলেও শুরু হয় কার্গো সংকট। ডিপিএম পদ্ধতিকে ৪ কার্গো এলএনজি আমদানির আদেশ দেওয়া হয়। যেগুলো কোনটাই দেশে আসেনি, যে কারণে মারাত্মক গ্যাস সংকট চলমান। প্রায় দুই মাস পর (১৪ সেপ্টেম্বর) আমদানি পূর্বের অবস্থায় ফিরলে গ্যাস সংকট অনেকটা কমে আসে।
সংকট কাটিয়ে ১০ দিন ঠিকঠাক চলার আগেই ২৩ সেপ্টেম্বর সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় কমেছে সরবরাহ। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বছরে প্রায় ৪৫ দিনের মতো সাগর উত্তাল থাকে। যে কারণে ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনালে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু দেড়যুগ ধরে শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






