বোয়ালখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (২৮) নামে এক আসামিকে ধরতে গিয়ে আহত হয়েছেন তিন পুলিশ সদস্য।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার চরণদ্বীপ মসজিদ ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, উক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে সে পুলিশের হাতে কামড় ও আঁচড় দিয়ে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যায়। এসময় ৩ পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন আহত হন। তবে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি আসামি মহিউদ্দিনের। পুলিশ জোরদার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর করলডেঙ্গা শিকদার বাড়ির বাসিন্দা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আবদুল মান্নান নামে এক ব্যক্তি সিআর মামলা দায়ের করেছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে রবিবার রাতে বোয়ালখালী থানা পুলিশ অভিযানে নামে। এ সময় মামলার বাদীও পুলিশ দলের সঙ্গে ছিলেন।
পুলিশ আসামিকে হ্যান্ডকাফ পরালে মহিউদ্দিন ও তার সঙ্গীরা অতর্কিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে চরম ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে আসামি মহিউদ্দিন পুলিশ সদস্যদের হাতে কামড় ও আঁচড় দিয়ে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যায়।
ধস্তাধস্তিতে বোয়ালখালী থানার এসআই আবদুল হালিম (৪৮), এএসআই মাসুম বিল্লাহ (৩৫), কনস্টেবল হাসানুজ্জামান (৩২) এবং মামলার বাদী আবদুল মান্নান (৫৫) ও মোক্তার হোসেন (৪০) গুরুতর আহত হন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কৌশিক দাশ।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত চিরুনি অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি মহিউদ্দিনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলায় সহায়তা করার অভিযোগে চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদে নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনকে (২৩) আটক করা হয়।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, আসামি ধরতে গেলে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং আঁচড়-কামড় দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে মূল আসামি মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলায় যুক্ত থাকার অপরাধে গ্রাম পুলিশ জেবল হোসাইনের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/ইয়াছি/জেএইচ





