চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: বান্দরবানে বেড়েছে হামের প্রকোপ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৪১৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় রোগটিতে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আলীকদমে দুইজন এবং রুমা উপজেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে যেখানে রয়েছে এক মায়ের দুই সন্তান।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, শুধু রুমা উপজেলাতেই গত ২৫ দিনে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে ১১০ জন। বাকিদের কেউ কেউ পাশের উপজেলা রোয়াংছড়ি ও থানচিতে চিকিৎসা নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি হামে আক্রান্ত এক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়ার সময় সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স না পাওয়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে বিলম্ব হয়। পথে শিশুটির মৃত্যু হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস পার্বত্য জেলা পরিষদকে চিঠি দিয়ে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স সংকট নিরসনের আহ্বান জানান। পরে জেলা পরিষদের জরুরি সভায় বিকল অ্যাম্বুল্যান্সগুলো দ্রুত মেরামত এবং সার্বক্ষণিক একটি বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে আলীকদম উপজেলায়—৫৮০ জন। এছাড়া বান্দরবান সদর হাসপাতালে ২২৮ জন, লামায় ২০৭ জন, থানচিতে ১৭১ জন, নাইক্ষ্যংছড়িতে ১১৭ জন, রুমায় ১১০ জন, সদর উপজেলায় ১৫ জন এবং রোয়াংছড়িতে একজন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. শাহীন চৌধুরী জানান, বর্তমানে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ৪০ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় সোমবার থেকে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ টিকাদান অভিযান শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা যৌথভাবে দুর্গম এলাকায় গিয়ে টিকাবঞ্চিত শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দিচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





