বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ: ডিএনএ প্রমাণের ভিত্তিতে ৭ কর্মদিবসে চার্জশিট

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মাত্র সাত কর্মদিবসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ঘটনার পরপরই একাধিক তদন্ত দল কাজ শুরু করে। সিআইডির সহায়তায় ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় এবং বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার হাতে ডিএনএ প্রতিবেদন পৌঁছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে পরদিনই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুরমাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহমেদ দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়।

এদিকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে একদল ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন। পাশাপাশি পুলিশবাহী কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

এ ঘটনায় চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) আরিফ ইকবাল জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top