ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ছাড়াই দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দিনে-রাতে একাধিকবার হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে—কখন আসবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, গৃহিণীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানের কাজ ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। ফ্রিজের পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছি।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় এমন পরিস্থিতি তাদের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ফটিকছড়ি জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও সরবরাহ মিলছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং লোডশেডিংয়ের একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগে সন্ধ্যার পর মার্কেট ও দোকানপাট আংশিক বন্ধ রাখার পরও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফটিকছড়িবাসী আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং চলমান জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
চাটগাঁ নিউজ/আনোয়ার/এমকেএন






