পটিয়া উপজেলা হাসপাতালকে ১৫০ শয্যায় উন্নীতের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাঁচজন মেডিকেল অফিসার, চারজন নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উন্নত প্যাথলজি ও ফিজিওথেরাপি সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি, নবজাতকদের জন্য ২০টি এবং ডায়ালাইসিসের জন্য ১০টি শয্যা রাখা হবে। এ জন্য দেওয়া হবে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে এসে এসব ঘোষণা দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ও সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখার পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজ নেন মন্ত্রী। শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রধানমন্ত্রী পাঠিয়েছেন। আমি খালি হাতে আসিনি।’ হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঘোষিত জনবলের মধ্যে চারজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাঁচজন মেডিকেল অফিসার, চারজন নার্স, একজন মিডওয়াইফ, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন বাবুর্চি ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন।

হাসপাতালের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৫০টি রেবিস ভ্যাকসিন, ৫০টি রেবিস আইজি, ১৫০টি ডায়রিয়ার স্যালাইন ও ২০টি অ্যান্টিভেনম দেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পুনর্নির্মাণে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এইচইডি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পটিয়া হাসপাতালে উন্নতমানের প্যাথলজি সেবা চালু করা হবে। ডায়ালাইসিস ইউনিটে ১০টি শয্যা ও ১০টি মেশিন থাকবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে সেবাটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এতে প্রতিদিন ২০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, ফিজিওথেরাপি সেন্টারে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুরুষ ও নারী চিকিৎসকও দেওয়া হবে।

আইসিইউ স্থাপনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু অর্থ ব্যয়ের জন্য এখনই আইসিইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পর এটি চালু করা হবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি হন এবং বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসা নেন। পটিয়াসহ আশপাশের পাঁচ উপজেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসায় প্রতিনিয়ত চাপ বাড়ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেই তিনি পটিয়া হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছেন। এখানকার সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ সময় চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, পটিয়া একসময় মহকুমা সদর ছিল। বৃহত্তর এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা বিবেচনায় সে সময় এখানকার স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে ওঠে। বর্তমানে পাঁচ উপজেলার রোগীরা এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়বসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top