চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জনজীবন যখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, তখন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে একই পরিস্থিতিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত মাস্টার্স শেষ পর্বের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো পরীক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজসহ বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপের কথা জানান। জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, যানবাহনের সংকট এবং নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে তাদের।
পরীক্ষার্থীরা জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করায় তারাও আশা করেছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে। এ কারণে বুধবার রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকেই। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো স্থগিতাদেশ না আসায় বাধ্য হয়ে নানা দুর্ভোগ পেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা আরও বলেন, অনেক এলাকায় কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। কোথাও সড়ক ডুবে গেছে, কোথাও আবার পাহাড়ি ঢলে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অনেককে কয়েক দফা যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ হেঁটে কিংবা বিকল্প উপায়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে এসেছেন।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা আরও বলেন, যারা অন্য উপজেলা কিংবা জেলা থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছেন, তাদের অনেকেই যাতায়াত ও আবাসন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরীক্ষা হবে কি না—এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকায় কেউ আগাম পরিকল্পনা করতে পারেননি। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, সময়ের অপচয় এবং মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তারা।
পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যদি আগেভাগেই স্পষ্ট ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত জানাত, তাহলে তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারতেন। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোনো ঘোষণা না থাকায় অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন এবং বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হন।
চট্টগ্রাম কলেজ ও সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ কেন্দ্রের একাধিক পরীক্ষার্থী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও দুর্ভোগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত, বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে না রেখে আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলে অযথা দুর্ভোগ, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তারা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নেওয়ারও দাবি জানান।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





