আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যের জানাজার নামাজ তেহরানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত এ জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার পর জানাজার নামাজ শুরু হয়। নামাজে ইমামতি করেন ইরানের জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার আহমেদ ভাহিদিসহ দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এছাড়া কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানিও জানাজায় অংশ নেন।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খামেনির তিন ছেলে—মাসুদ, মেসাম ও মোস্তফা—জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তবে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
জানাজার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রধান প্রাঙ্গণ শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। শনিবার থেকে সেখানে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির মরদেহ রাখা হয়।
রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালা সফর শেষে বৃহস্পতিবার ইরানের মাশহাদে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে আলী খামেনি নিহত হন বলে ইরান জানায়। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।
শনিবার শুরু হওয়া শোকানুষ্ঠানের প্রথম দিনেও বিপুলসংখ্যক মানুষ কালো পোশাক ও লাল পতাকা নিয়ে অংশ নেন। অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ এই বিশাল জনসমাগমকে যুদ্ধ-পরবর্তী জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে। সূত্র: আল-জাজিরা ও তাসনিম নিউজ
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





