টানা বর্ষণে লণ্ডভণ্ড চট্টগ্রাম— ক্ষত সারাতে ২৬০ কোটি চেয়েছে চসিক

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাম্প্রতিক টানা আট দিনের অতিবর্ষণ ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। বৃষ্টির পানিতে নগরের প্রায় ১৯৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষত-বিক্ষত হয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সড়ক ছাড়াও বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কারে প্রয়োজন প্রায় ৩৫৮ কোটি টাকা। তবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) এই বিপুল পরিমাণ ব্যয়ভার বহনের আর্থিক সক্ষমতা নেই।

এই চরম সংকটকালীন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে সর্বমোট ২৬০ কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ চেয়েছে চসিক।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক সহায়তা চেয়ে গত ১৫ জুলাই দুটি মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ২৫০ কোটি টাকা এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ১০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

বরাদ্দের বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে নগরের প্রায় ১৯৭ কিলোমিটার সড়ক নষ্ট হয়েছে, যা সংস্কার করতে ৩৪৮ কোটি টাকা প্রয়োজন। এছাড়া অনেক জায়গায় বসতঘরসহ অন্যান্য অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে। বাস্তবতা হলো, সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থা অতটা সক্ষম নয়। তাই মন্ত্রণালয়ে ডিও (আধা-সরকারি পত্র) দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু’র সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। তাঁরা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা
মন্ত্রণালয়ে পাঠানো পত্রে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান বন্দর নগরী হওয়ায় প্রতিদিন শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে ভারী যানবাহনসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার গাড়ি চলাচল করে। টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল খানাখন্দ। ফলে নগরবাসীর চলাচলের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে; একই সাথে জরুরি পণ্য সরবরাহ, চিকিৎসাসেবা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নগরের বিভিন্ন খালের পাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী (গাইড ওয়াল বা রেলিং) না থাকায় জলাবদ্ধতার সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সড়ক মেরামতের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহে দ্রুত নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।

চসিকের আর্থিক সীমাবদ্ধতা
সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে প্রতি বছর নিজস্ব তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। নগরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, খাল-নালা খনন ও পুনঃখনন, সড়ক আলোকায়ন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে গিয়ে চসিকের নিজস্ব তহবিলের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় সংস্কার কাজ চসিকের পক্ষে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

টানা বৃষ্টির বিবরণ
গত ৫ জুলাই থেকে নগরে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত একটানা ভারী বৃষ্টি চলে। যা ১১ ও ১২ জুলাইও এই বর্ষণ অব্যাহত থাকে। টানা ৮ দিনের এই অভূতপূর্ব বৃষ্টির কারণেই মূলত বন্দর নগরীর সড়ক ও অবকাঠামো পুরোপুরি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ে।

নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুততম সময়ে এই বিশেষ থোক বরাদ্দ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top