সরোজ আহমেদ : জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের পণ্যের বাজারে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম বাড়ার পরপরই পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, সবজি, মাছসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পণ্যের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
দেখা গেছে, কিছুদিন ধরে বাজারে খোলা আটার দাম বেড়ে খুচরায় প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। ১৪০ টাকা দামের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এ ছাড়া কেজিপ্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে বেড়েছে মাছের দামও। এ ছাড়া করলা, বরবটি, বেগুন, আলুসহ অন্যান্য শাকসবজির দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে।
একজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, আগে যে পণ্য পরিবহনে নির্দিষ্ট খরচ হতো, এখন তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে আগের দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। একই কথা জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারাও।
রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান সাকিব চাটগাঁ নিউজকে বলেন, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা–রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, নাটোর, নওগাঁসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চাল আনতে আগে ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা ভাড়া লাগলেও এখন গুনতে হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার টাকা। ফলে পণ্য আনা-নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, হঠাৎ করে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করা কঠিন হয়ে উঠছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, আয়ের সঙ্গে খরচের এই ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে।
লালখান বাজারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরওয়ার আলম বলেন, আমাদের মতো চাকরিজীবীদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিবার তেলের দাম বাড়লে অফিসে যাতায়াত খরচ বাড়ে, বাজার খরচ বাড়ে। কিন্তু বেতন তো বাড়ে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
নগরীর একটি বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রাবণী মজুমদার বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ার পরই আমরা চাপে ছিলাম। এখন আবার তেলের দাম বাড়ানোয় দৈনন্দিন খরচ কীভাবে সামলাবো, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তারা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সার্বিকভাবে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি চট্টগ্রামের পণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





