চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথই সিরাতুল মুস্তাকিম এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামী ও মওদূদীবাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও দেশের প্রবীণ আলেমেদ্বীন আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর দ্বীন আমাদের দ্বীন নয়, জামায়াতে ইসলামীর ইসলাম আমাদের ইসলাম নয়। তাঁর অভিযোগ, সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে অস্বীকার করার মাধ্যমে মওদূদীবাদ ইসলামের মৌলিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসার ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে এসব বক্তব্য উঠে আসে।
সম্মেলনে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পথই সাহাবায়ে কেরামের পথ, যা কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে উম্মতের কাছে পৌঁছেছে। এ পথই সিরাতুল মুস্তাকিম। যারা এ পথে থাকবে, তারাই নাজাত পাবে।
তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী উম্মতের মধ্যে ৭২টি ভ্রান্ত ফিরকার আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমানে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতাদর্শের বিস্তার ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি নন – এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে হেফাজত আমির বলেন, আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার বিধানসহ ইসলামের মৌলিক আমলগুলো সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমেই পেয়েছি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের পদ্ধতি সাহাবিরাই প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তাহলে সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে অস্বীকার করলে দ্বীনের ধারাবাহিকতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদূদীর চিন্তাধারার সমালোচনা করে বলেন, মওদূদী সাহাবায়ে কেরামকে সত্যের মাপকাঠি হিসেবে মানতে চাননি। তাঁর মতে, মওদূদীর বিভিন্ন বক্তব্য ইসলামের প্রচলিত আকিদা ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ প্রসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর ধর্মীয় আদর্শকে নিজেদের অনুসৃত ইসলামী আদর্শ থেকে পৃথক বলে মন্তব্য করেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ধর্মীয়-রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কঠোর সমালোচনা করেন।
একই সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণহত্যা, নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে জড়িতদের বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। যারা মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে এবং গণ হত্যা চালিয়ে এখনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি, তাদের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দেশের মানুষ দেবে না।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ






