চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৭টায় প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা আলহাজ সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী।
খতিব এ সময় খুতবা পাঠ করেন। খুতবা পড়ার সময় কিভাবে কোরবানি করতে হবে, কোরবানির মাংস কিভাবে বিলি-বণ্টন করতে হবে ইত্যাদি বয়ান করেন।
দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় শেষে আল্লাহর কাছে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয়। এরপর প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী কোলাকুলি করেন মুসল্লিরা।
মুসল্লিদের সুবিধার্থে পুরো এলাকায় ১৪০টি সিলিং ফ্যান, ৬০টি স্ট্যান্ড ফ্যান, ৭০টি মাইক এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
একই স্থানে সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।
এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরের ৯টি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মসজিদগুলো হলো— লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রা.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুর বাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) চসিক জামে মসজিদ (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন)।
কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটি এবং জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ঈদুল আজহার প্রধান ঈদ জামাত চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাতে ইমামতি করেন বায়তুশ শরফ আদর্শ সিনিয়র কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আল্লামা ড. সাইয়েদ আবু নোমান। কমিটির আওতাভুক্ত নগরের ৯৪টি আঞ্চলিক ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রথম জামাতে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, প্রাক্তন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মীর নাছির উদ্দিন, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে নামাজ শেষে মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করেছেন। ভোরেই কোরবানি করার জন্য পশুকে গোসল করিয়ে প্রস্তুত করে রাখা হয়।
পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে অনেকে ছুটে গেছেন গ্রামে। যারা শহরে রয়ে গেছেন, তারা নিজেদের ও প্রিয়জনের নামে পশু কোরবানি দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হয়েছেন। পরে সমাজের দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে কোরবানির মাংস বিলি করবেন সামর্থ্যবানরা।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





