চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একইসঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) রাতে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন।
পুলিশ জানায়, উস্কানি দিয়ে সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং বিস্ফোরক আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে ত্রিমুখী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। হামলার সময় বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা নির্মাণাধীন একটি অস্থায়ী ক্যাম্পেও ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলাকারীরা ট্রাকে করে এক্সক্যাভেটর এনে অভিযান চালায়। তাদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে আরও লোকজন ছিল। আলীনগর স্কুলসংলগ্ন পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে একযোগে হামলা চালানো হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি গুলিও ছোড়া হয়।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও রাস্তা কেটে রাখার সুযোগ নিয়েই সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গভীর ডিচ কেটে রাখায় বাহিনীর যানবাহন এগোতে পারেনি। ফলে সদস্যদের হেঁটে ঘটনাস্থলে যেতে হয় এবং সেই সুযোগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, রাত একটার পর থেকে হামলার সূত্রপাত হয়। জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশের কয়েকটি সড়ক কেটে ফেলা হয় এবং আলীনগর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি অস্থায়ী ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সেখানে যৌথবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে স্থায়ীভাবে সেখানে অবস্থান নিতে না পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। পুরো ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে কঠোর প্রতিরোধের কারণে হামলাকারীরা ক্যাম্পে ঢুকতে পারেনি এবং বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি।
পুলিশের ধারণা, এলাকায় কোটি কোটি টাকার স্বার্থ ও আধিপত্য ধরে রাখতেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এ হামলা চালিয়েছে। দ্রুত সড়ক নির্মাণ হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলেও মন্তব্য করেন এসপি মাসুদ আলম।
জানা গেছে, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়ক থেকে পাহাড়ি পথ ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রবেশ করতে হয়। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমির এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই অভিযানে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, সিএমপি, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৩ হাজারের বেশি সদস্য অংশ নেন। অভিযানের পর সেখানে অস্থায়ী পুলিশ ও র্যাব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





