চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : নগরের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় এক ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর ছেলে-মেয়েকে রাস্তাঘাট থেকে তুলে নেওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী।
হুমকিদাতারা নিজেদের বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনের লোক পরিচয় দিয়েছে বলেও সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বায়েজিদ বোস্তামী থানায় জিডি করেছেন ব্যবসায়ী মাকসুদুর রহমানের স্ত্রী মাহফুজা খানম রুনা (৪৭)।
জিডিতে মাহফুজা খানম উল্লেখ করেন, গত দুই-তিন দিন ধরে তার স্বামীর মোবাইল নম্বরে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন, রায়হান ও বড় সাজ্জাদের লোক পরিচয় দেওয়া হয়। এ সময় তাদের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার ছেলে-মেয়েকে রাস্তাঘাট থেকে তুলে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়।
জিডিতে আরও বলা হয়, গত ৩১ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে ডেভিড ইমন ও বড় সাজ্জাদের লোক পরিচয়ে শাহনেওয়াজ ও রায়হান নামে কয়েকজন ব্যক্তি কয়েকটি মোবাইল নম্বর থেকে মাকসুদুর রহমানের ফোনে কল করেন। তারা টাকা না দিলে পরিবারের ক্ষতি করার এবং ছেলে-মেয়েকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সব সময় নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
ভুক্তভোগী মাকসুদুর রহমান বলেন, গত চার-পাঁচ দিন ধরে একটি নম্বর থেকে তাকে বারবার হোয়াটসঅ্যাপে কল দেওয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে তার স্ত্রী ওই কল রিসিভ করেন। তখন ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর তারা টাকা দাবি করে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালিও করে।
তিনি বলেন, তাদের একজন কীভাবে টাকা লেনদেন করতে হবে, সেটিও জানায়। একপর্যায়ে তারা তার হাফেজ ছেলের ছবি পাঠিয়ে বলে, দেখ, তোর ছেলের ছবি। তোদের সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। তারা নিজেদের রায়হান ও সাজ্জাদের অনুসারী বলেও পরিচয় দেয়। এরপর বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দিতে থাকে।
মাকসুদুর রহমান আরও বলেন, এ ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত। তাই বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হুমকির ঘটনায় করা জিডিটি তদন্ত করা হচ্ছে। হুমকিদাতারা কারা এবং তাদের সঙ্গে বড় সাজ্জাদ বা ডেভিড ইমনের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল রিয়াদ বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হবে। হুমকির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে বড় সাজ্জাদ হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলী খানের প্রধান সহযোগী ও শুটার হিসেবে মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের নাম বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় এসেছে। ২০২২ সালের পর তিনি অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডেভিড ইমন বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে যোগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর নগরের বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, অস্ত্রের মহড়া ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার নাম সামনে আসে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের দাবি, চন্দনপুরা অ্যাক্সেস রোডের জোড়া খুন, পতেঙ্গার ডাকাইয়া আকবর হত্যাকাণ্ড এবং সাবেক এমপি মুজিবুর রহমানের বাড়িতে গুলি বর্ষণের ঘটনাসহ ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ১৫ থেকে ১৮টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গত জুলাইয়ে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, বড় সাজ্জাদ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থান করে হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রামে থাকা সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি। ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের ফোন করে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে হামলা বা গুলি চালানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





