চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে ঈদগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র

ঈদগাঁও প্রতিনিধি: কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নানা সীমাবদ্ধতা, তীব্র চিকিৎসক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও আবাসন সমস্যার মধ্য দিয়ে কোনোমতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জনবল সংকট, পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব এবং ডায়াগনস্টিক সুবিধা না থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে অনেক রোগীকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তবে দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিত্যক্ত তিনটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেখানে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য বিভাগে হস্তান্তর করা একটি মাত্র দুইতলা ভবনে বর্তমানে গাদাগাদি করে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। একই ভবনে পরিচালিত হচ্ছে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং নতুন অনুমোদন পাওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রতিদিন রোগীর চাপ অনেক বেশি হলেও সে অনুযায়ী পর্যাপ্ত কক্ষ, বসার ব্যবস্থা কিংবা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই।

বর্তমানে হাসপাতালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের আটজন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিনজন, যার মধ্যে একজন ডেন্টাল সার্জন (বিডিএস)। অন্যদের মধ্যে একজনকে জেলা সদর হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং বাকিরা বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা ও অন্যান্য কারণে অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন।

বর্তমানে জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. রোখসানা আফাজ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেন্দ্রটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল। নিয়ম অনুযায়ী ১০ জন আনসার সদস্য থাকার কথা থাকলেও আবাসন সংকটের কারণে তাদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাত্র একজন নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে পুরো হাসপাতাল কম্পাউন্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া হাসপাতালের প্রধান ফটকের তালা দুষ্কৃতকারীরা ভেঙে ফেলেছে। হাসপাতাল চত্বরে বড় দুটি ময়লার স্তূপ থাকায় পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।

উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোখসানা আফাজ বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় সীমিত সক্ষমতার মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি প্রধান ফটক স্থাপনের মাধ্যমে কার্যক্রমে কিছুটা শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, একটি ভবনে তিনটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে পরিত্যক্ত তিনটি ভবন ভেঙে ফেলার কাজ চলছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে নতুন টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে ভবন নির্মাণকাজ শুরু হবে।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, পরিত্যক্ত তিনটি ভবন অপসারণের কাজ চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঈদগাঁও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চাটগাঁ নিউজ/সেলিম/এমকেএন

Scroll to Top