চকরিয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির পাশাপাশি প্রবাসীর স্ত্রী ও দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আড়াইটার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। একপর্যায়ে ঘরে থাকা প্রবাসীর স্ত্রী ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, কিশোরীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজন সাইদুল ইসলাম মারুফ বলেন, ডাকাতরা শুধু লুটপাটই করেনি, তারা আমার বোন ও ভাগ্নির ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। আমার ভাগ্নির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি পুরো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডাকাতি ও ধর্ষণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাদির আটক করা হয় তারা হলেন রেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন (২৩), কেফায়েত হোসেন (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)। তারা সবাই পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/জবাইরুল/এমকেএন





