কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে বিরল প্রজাতির কালো-সাদা ধনেশ পাখির দেখা মিলেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের ব্যাঙছড়ি বিট এলাকায় পাখিটির দেখা পায় বন বিভাগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাঙছড়ি বিট এলাকায় নিয়মিত বনাঞ্চল পর্যবেক্ষণের সময় বিরল ধনেশ পাখিটির উপস্থিতি নজরে আসে। এ সময় বনাঞ্চলের গাছপালার মধ্যে পাখিটিকে বিচরণ করতে দেখা যায়। বিরল এই পাখির উপস্থিতি কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধতার আরেকটি প্রমাণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ধনেশ সাধারণত বড় আকৃতির বননির্ভর পাখি। বনজ পরিবেশের সঙ্গে এদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ফল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি বনে বীজ ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ধনেশ। ফলে বনজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ পাখির উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সুপারনিউমেরারি অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ আহসান বলেন, ছবিতে দেখা কালো-সাদা ধনেশ দুটি পুরুষ ও স্ত্রী পাখি বলে মনে হচ্ছে। ধনেশ পাখি সাধারণত বননির্ভর এবং বনের সুস্থ পরিবেশের সঙ্গে এদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের পাখির উপস্থিতি একটি এলাকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে।
তিনি আরও বলেন, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে এদের উপস্থিতি থাকলে পাখিগুলোর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রজাতির পাখি, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। পাহাড়, বন ও কাপ্তাই হ্রদঘেরা এ অঞ্চলে বিভিন্ন সময় বিরল ও পরিযায়ী পাখিরও দেখা মেলে। নতুন করে কালো-সাদা ধনেশের উপস্থিতি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের ব্যাঙছড়ি বিটে বিরল ধনেশ পাখিটি দেখা গেছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিরল পাখি বা বন্যপ্রাণীর দেখা মিললে তা ধরার চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। ছবি বা ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রেও পাখিটিকে বিরক্ত না করার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।
চাটগাঁ নিউজ/ঝুলন/এমকেএন





