এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, হাজার হাজার শ্রমিকের মাথায় হাত!

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও তারল্যসংকটে জর্জরিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর ১১টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব কারখানার হাজার হাজার শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এসব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মূলত গ্রুপটির ব্যবসা ও ব্যাংকগুলোতে ধস নামতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়া এবং নতুন করে এলসি (ঋণপত্র) খোলা বা কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এস আলম সুগারের শিফট ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসমত আলী বলেন, ‘কাঁচামালের সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে কারখানায় উৎপাদন চলছিল না। প্রায় দুই বছর এক রকম কাজ ছাড়াই আমাদের বেতন দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এখন আর না পেরে আমাদের বিদায় করেছেন।’

তিনি জানান, একসঙ্গে এই কারখানা থেকে ৩৮৬ জনকে বিদায় করা হয়েছে। সবাইকে অবসর ভাতাসহ প্রাপ্য বেতন ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এর আগেও বিভিন্ন ধাপে ১৫ জন, ৪০ জন করে ছাঁটাই করা হয়েছিল।

কর্ণফুলীতে বন্ধ হওয়া এস আলম গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড-এনওএফ, এস আলম স্টিল ও এস আলম ব্যাগ। এসব কারখানার সবকটি কর্ণফুলীর বিভিন্ন এলাকার অবস্থিত বলে এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান।

এস আলমের কারখানাগুলোতে কাঁচামাল সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এলসি খুলতে না পারা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকাসহ নানা কারণে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো আর চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

কারখানা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানায় শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। হঠাৎ ছাঁটাইয়ের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা। শুধু এস আলম সুগারই নয়; মূলত সবকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছাঁটাই করে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জানা গেছে, ব্যাংকের সহযোগিতা এবং কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় কারখানাগুলো আগে থেকে বন্ধ ঘোষণা ছিল। তবে মজুত কাঁচামাল দিয়ে কিছু দিন কারখানাগুলো চালু ছিল। এসব কারখানায় আগে থেকে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও একেবারে কার্যক্রম বন্ধ ছিল না। তবে এবারই সবগুলো প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই শ্রমিকদের নামের তালিকা টানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

জানতে চাইলে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন কর্মরতরা ফিরে যাক।’

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top