চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত পদকের অপেক্ষা শেষ হলো প্রায় চার দশক পর! তবে এই পদকের গল্পটি অন্যরকম। কোনো প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নয়, বরং বাই, ভাগ্য এবং প্রতিপক্ষের ওজনজনিত অযোগ্যতার পথ ধরে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন বাংলাদেশের উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তার।
নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন জিন্নাত। অথচ এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তাকে কোনো ম্যাচেই নামতে হয়নি। প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়ে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেন্টিনা থারিসা দিয়া নির্ধারিত হলেও অতিরিক্ত ওজনের কারণে আয়োজকদের কাছে অযোগ্য বিবেচিত হন। লড়াইয়ের আগেই জয়ী ঘোষণা করা হয় জিন্নাতকে!
আইচি প্রিফেকচারাল মার্শাল আর্ট হলে ৫২ কেজি নারী ইভেন্টে ১৫ জন প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। নকআউট পদ্ধতির এই প্রতিযোগিতায় শুরুতেই বাই পেয়েছিলেন বাংলাদেশের জিন্নাত। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটিও না খেলেই পেরিয়ে যান সেমিফাইনালের মঞ্চে। সেখানেই নিশ্চিত হয়ে যায় অন্তত একটি পদক।
পদক নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অবশ্য শুরুতে কিছুটা সংশয় ছিল বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে। এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে উশুর একটি ইভেন্টে বাংলাদেশের এক প্রতিযোগী সেমিফাইনালে উঠলেও পরে জানা যায়, অংশগ্রহণকারী সংখ্যা কম হওয়ায় সেমিফাইনালে হেরে গেলেই ব্রোঞ্জ পাওয়া যাবে না; আলাদা ব্রোঞ্জের ম্যাচ খেলতে হবে। সেই ম্যাচেও হেরে পদক থেকে বঞ্চিত হন বাংলাদেশের প্রতিযোগী।প্রবাসী নেটওয়ার্কে যোগদিন
জিন্নাতের ক্ষেত্রে সেই শঙ্কা নেই বলেই নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ উশু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও দলের কোচ দিলদার হোসেন দিলু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের ৫২ কেজি ইভেন্টে প্রতিযোগীর সংখ্যা ১৫ হওয়ায় সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই প্রতিযোগীই ব্রোঞ্জ পদক পাবেন।
বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে জিন্নাতের পদক নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। বুধবার চীনের উ দি’র বিপক্ষে সেমিফাইনালে জিন্নাত হারলেও তার গলায় উঠবে ব্রোঞ্জ।
জিন্নাত জিতলে অবশ্য গল্পটি আরও বড় হবে। সেমিফাইনালের বাধা পেরোতে পারলে তিনি সরাসরি স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে চলে যাবেন। অর্থাৎ কোনো ম্যাচ না খেলে নিশ্চিত করা ব্রোঞ্জ থেকে শুরু করে স্বর্ণের সম্ভাবনাও এখন খোলা বাংলাদেশের এই উশু খেলোয়াড়ের সামনে।
জিন্নাতের এই পদক বাংলাদেশের এশিয়ান গেমস ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্যের। ১৯৭৮ সালে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে এতদিন পদক ছিল মাত্র একটি। ১৯৮৬ সালে বক্সার মোশাররফ হোসেন সিউল এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জিতে সেই ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে নেপালের ধ্রুব লাল শ্রেষ্ঠাকে মাত্র ৩৮ সেকেন্ডে নকআউট করে পদক নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। পরে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের হুসাইন সাহের কাছে হেরে ব্রোঞ্জ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।প্রবাসী নেটওয়ার্কে যোগদিন
চার দশক পর সেই তালিকায় যুক্ত হলেন জিন্নাত। তবে মোশাররফের সঙ্গে তার ইতিহাসের পার্থক্যও স্পষ্ট-মোশাররফকে পদক নিশ্চিত করতে লড়াই করতে হয়েছিল, জিন্নাতের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচও খেলতে হয়নি।
জিন্নাতের পদকের খবরটি আসে এমন এক সময়ে, যখন কাবাডিতে বাংলাদেশের পদকের সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। জাপানকে হারাতে পারলেই কাবাডিতে পদক নিশ্চিত হওয়ার সমীকরণ ছিল। কিন্তু জাপানের কাছে হেরে সেই অপেক্ষা দীর্ঘ হয়। এর মধ্যেই উশু থেকে আসে স্বস্তির খবর-চার দশক পর এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের কোনো অ্যাথলেট ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে পুরুষদের ৫৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে বাংলাদেশের সজীব হোসেনের অভিযান কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয়েছে। চীনের জিয়ামিনের বিপক্ষে নকআউট হওয়ার পর পরবর্তী রাউন্ডে আর অংশ নিতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ওয়াকওভার দিতে হয় বাংলাদেশের এই প্রতিযোগীকে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






