উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের উন্নয়ন প্রকল্পে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউপি সদস্যসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এ মামলাটি করেন সংস্থার উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন।

মামলার আসামিরা হলেন- করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন নয়ন, সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবু তাহের (মাস্টার), মো. শহীদ উল্লাহ, মো. বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মো. আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপপরিচালক মো.রিয়াজ উদ্দিন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে প্রকল্পের অধিকাংশ ভাউচার জাল বলে প্রতীয়মান হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেও ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভাউচারে উল্লেখ করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা দুদকের অনুসন্ধানকারীদের জানিয়েছেন, ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাদের নয়। এ ছাড়া প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্য সদস্যদের অধিকাংশ স্বাক্ষরও জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। ১ শতাংশ করের অর্থে নেওয়া ৫৫টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রকল্পের নির্দেশনা ও নীতিমালা লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং জাল ভাউচার তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে মামলাটি করা হয়েছে। অনুসন্ধানের সময় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, চেয়ারম্যানের চাপে দোকান থেকে সংগ্রহ করা খালি ভাউচার তিনি পূরণ করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top