আনোয়ারায় বাবার বাড়ির কবরস্থানে মেয়ের দাফনে সমাজ কমিটির বাঁধা!

আনোয়ারা প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সমাজ কমিটির সদস্য না হওয়ায় বাবার বাড়ির কবরস্থানে মেয়ের লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ফকিরখিল এলাকায় এ অমানবিক ও নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পাশ্ববর্তী আরেকটি কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সৈয়দুল হকের মেয়ে হিজবুল্লাহ্ বাহার (৪৮) নামের এক নারী। দুপুরে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে দাফনের জন্য বাবার বাড়ির সামাজিক পুরনো কবরস্থানে কবর খনন শুরু করেন স্বজনেরা।

এ সময় ‘ফকিরখীল এয়ার আলী খান সমাজকল্যাণ সমিতি’র সভাপতিসহ স্থানীয় কয়েকজন সমাজ পরিচালনা কমিটির নেতা কবর খননে বাধা দেন এবং সেখানে মরদেহ দাফন করতে অস্বীকৃতি জানান। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে মারা যাওয়া ওই নারীর ছোট ভাইকে মারধর করেন সমাজ কমিটির সভাপতি মো. জামশেদ উদ্দিন।

অভিযোগ উঠে, ফকিরখীল এয়ার আলী শাহ সমাজে অন্তর্ভুক্ত হতে সদস্য প্রতি ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। নির্ধারিত টাকা না দিলে সমাজের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এমনটিও টাকার দাবি মৃত হিজবুল্লাহ্ বাহারের পরিবারকেও দেওয়া হয়। এর মধ্যে সদ্য মৃত্যু বরণ করা মেয়েকে সমাজের বাসিন্দা না হওয়ার অজুহাতে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা বাঁধা দেই। এটি ছাড়াও বিগত কয়েক বছরে এ সমাজের বাসিন্দার দ্বিতীয় বিবাহ করা সন্তানেরসহ কয়েকজনের লাশ দাফনের বাঁধার ঘটনা ঘটেছে।

মৃত হিজবুল্লাহ্ বাহারের ছোট ভাই মো. মুজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে বন্দর থানা এলাকার বাসিন্দা আবদুর রশিদের সঙ্গে আমার বোনের বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। সেখানে নিজস্ব কোনো জমি না থাকায় বোন ও দুলাভাই আমার বাবার পৈতৃক জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের পড়াশোনা ও জীবিকার তাগিদে বোন শহরে চলে যান। আজ সকালে হাসপাতালে তিনি মারা যাওয়ার পর আমরা আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিই। কিন্তু সমাজের সভাপতি জামশেদ উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন এসে বাধা দেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বোন অন্য এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় এখানে দাফন করা যাবে না।’

মো. মুজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা নিরুপায় হয়ে পড়ি। কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত পৈতৃক কবরস্থান বাদ দিয়ে আমার এক চাচাতো ভাইয়ের নিজস্ব জমিতে কবর খনন করে বোনের লাশ দাফন করতে বাধ্য হয়েছি। বিষয়টি আমরা পুলিশকেও জানিয়েছি।’

ফকিরখীল এয়ার আলী খান সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি জামশেদ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মহল্লার নিয়ম অনুযায়ী সমাজের বহির্ভূত কাউকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করার সুযোগ নেই। এই কারণে তাদেরকে এখানে কবর না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফেলেছেন।’

সমাজের সদস্য অন্তর্ভুক্ত হতে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার বিষয়ে স্বীকার করে এ সভাপতি জানান, নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সমাজের সদস্য অন্তর্ভুক্ত হতে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ টাকা দিয়ে কবরস্থানসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে জেনেছি, ওই কবরস্থানের বাইরে অন্য একটি জায়গায় লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/জেএইচ

Scroll to Top