‘মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে ভূমিকা রাখবে এ স্মৃতিসৌধ’

চট্টগ্রামে স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো নিয়ে ‘কাজ করার’ কথা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধসহ বিভিন্ন লড়াই-সংগ্রামের অন্যতম সূতিকাগার এ চট্টগ্রাম। এখানে একটি স্মৃতিসৌধ করা হচ্ছে। আমি খুব খুশি। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এ স্মৃতিসৌধ ভূমিকা পালন করবে।’

শনিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নগরীর আকবর শাহ থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের পর ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’ তিনি এ কথা বলেন।

চেতনা না থাকলে দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকবে না মন্তব্য করে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য যা যা দরকার তার সবই করব। চেতনা যদি না থাকে, তাহলে দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকবে না, টান থাকবে না। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তাদের পরিবারকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সন্তানেরা আমাদের আদর্শে বাঁচবে। অন্যের আদর্শে না।’

মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ইতিহাস উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল বলেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ১৯৪০ সালের এদিনে পাকিস্তান দিবসের প্রস্তাব দেন। ২৩ মার্চ প্রতি বছর পাকিস্তান দিবস হিসেবে পালিত হতো। এদিন ভোরে দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হতো, আয়োজন করা হতো কুচকাওয়াজ, সভা সমাবেশ ও নানা অনুষ্ঠান।’

‘১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেবারের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস হিসেবে নয়, পালিত হবে প্রতিরোধ দিবস হিসেবে। শুধুমাত্র ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া সব জায়গায় বাঙালিরা সেদিন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আবার ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করার জন্য জিয়াউর রহমান গিয়েছিলেন। সেদিন স্থানীয় ও মুক্তিযোদ্ধা প্রত্যেকের বাধার মুখে ওই অস্ত্র নামাতে পারেননি জিয়া। বলা যায়, ২৩ মার্চ যেমন সুখের তেমন দুঃখের। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং প্রথম চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে ওই ভাষণ পাঠ করেছেন অনেকেই।’

‘কিন্তু আজ যারা স্বাধীনতা বিরোধী, তারাই হয়ে গেলেন স্বাধীনতার ঘোষক। তারা স্বঘোষিত কী কী হননি, সব হয়েছেন। যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ওইসময়ে ফিরিয়ে না আনা যেত তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা বিপক্ষ শক্তির হাতে চলে যেত।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু ও এস এম আল মামুন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার এ কে এম সারোয়ার কামাল ও মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এম মাহতাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ প্রমুখ।

আলোচনা শেষে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘বিজয় নিশান’র মোড়ক উম্মোচন করেন মন্ত্রী।

জেলা প্রশাসকের সংবাদ সম্মেলন

সমাবেশের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান। তিনি স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের অসামান্য অবদান আছে। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামে কোনো স্থায়ী স্মৃতিসৌধ ছিল না। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রামবাসীর অনেকদিন ধরেই একটি দাবি ছিল, এখানে স্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হোক। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করা হোক।’

চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরে হওয়ায় সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ঢাকার সাভারে যখন জাতীয় স্মৃতিসৌধ হয়েছিল তখনও মানুষ প্রথমে কম যেত। কারণ সাভার অনেক দূরে। কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ সেখানেই ফুল দিতে যায়। আমরা বেশকিছু গণপরিবহনের ব্যবস্থা করব, যাতে মানুষ এখানে আসতে পারে। প্রতি ঘণ্টায় দুটি পয়েন্ট থেকে বাস ছেড়ে আসবে। সে বাসে করে মানুষ এখানে এসে শ্রদ্ধা জানাতে আসতে পারবে।’

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top