রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেবনগর এলাকায় পাহাড়ি ঢলে ধসে যাওয়া ‘বেল্লাতল’ খালের কালভার্টের এপ্রোচ (সংযোগ) সড়কের জরুরি সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সিপ্লাস টিভিতে এ-সংক্রান্ত জনদুর্ভোগের সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হয়। পরে তাঁর নির্দেশে প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
জানা যায়, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ইসলামপুর ইউনিয়নের সাহেবনগর সড়কের প্রধান কালভার্টটি দুই পাশের সংযোগ সড়ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরাজীর্ণ কালভার্টটি দিয়ে এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার করছিলেন। সিপ্লাস টিভিতে এ বিষয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি মো. ইকবাল হোসেনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেন।
সংসদ সদস্যের জরুরি নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, এমপি মহোদয়ের জরুরি নির্দেশনা পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাৎক্ষণিক চলাচলের উপযোগী করতে কালভার্টের দুই পাশে টিনশেড ও বল্লি স্থাপন করে মাটি ভরাট করা হয়েছে। আপাতত এ জরুরি কাজের ব্যয় পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।
তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই কালভার্টটির স্থলে একটি স্থায়ী নতুন কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে স্থানীয়দের যাতায়াত সচল রাখতেই সংসদ সদস্যের নির্দেশে এ জরুরি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইকবাল হোসেন জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। সড়কটি একদিকে রাঙামাটি প্রধান সড়ক এবং অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চল ঘাগড়া সংযোগ সড়কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কালভার্টটি ধসে যাওয়ায় দীর্ঘদিন এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে ছিলেন। তবে সংসদ সদস্যের দ্রুত পদক্ষেপে তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এদিকে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে সাহেবনগর এলাকার মৎস্যচাষি ও কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঢলের পানিতে বহু পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খালের পাড়ের বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িও। কর্দমাক্ত সড়ক ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ অঞ্চলের সমস্যা সমাধান এবং রাস্তাঘাট মেরামতে আরও প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন





