বোয়ালখালী প্রতিনিধি: টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবাও।
বুধবার (৮ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী, চরখিজিরপুর, পশ্চিম শাকপুরা, ঘোষখীল ও কধুরখীল ইউনিয়নসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক বাড়িঘর, আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিভিন্ন এলাকায় অনেক দোকানেও পানি ঢুকে পণ্যসামগ্রীর ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল উঁচু স্থানে সরিয়ে রেখেছেন।
হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন রিনা আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে হাসপাতাল চত্বর ও নিচতলায় পানি জমে গেছে। এতে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ঠিকমতো চিকিৎসক দেখানো ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতেও অসুবিধা হচ্ছে।
শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, ভারাম্ভ খালের প্রবল স্রোতে কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। খালের ওপর ও আশপাশে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে হাসপাতালে পানি ঢুকে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ওষুধপত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি। তবে কিছু আসবাবপত্রের ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং এক্স-রে মেশিন চালু করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি না হলে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।
বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। রোভার স্কাউটসের স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/ইয়াসিন/এমকেএন






