রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: টানা রেকর্ড পরিমাণ ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নারিচ্ছাবিটা এলাকায় শিলক খালের ওপর নির্মিত একমাত্র কাঠের সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। এতে অন্তত ৩০০টিরও বেশি পরিবারের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। একটি মাত্র সেতু ভেঙে যাওয়ায় পুরো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার এ অংশের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল শিলক খালের ওপর নির্মিত এই কাঠের সেতু। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে সেতুটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা। বিকল্প কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় তারা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েরা। জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসসহ যেকোনো জরুরি সেবা এলাকায় পৌঁছানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না। একই সঙ্গে কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলে যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু, নারী ও বয়স্কদের।
ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এলাকাবাসী দ্রুত সরকারি উদ্যোগে শিলক খালের ওপর একটি টেকসই ও স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তারা নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন





