কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: টানা কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সড়ক ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মাত্র ১০৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাইয়ে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও এখনো হাজারো পরিবার মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনিতে প্রায় ৫০০ পরিবার বসবাস করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত উপজেলার ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে তিনটিতে মোট ১০৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে খিচুড়িসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।
৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের উদ্বেগ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঢাকাইয়া কলোনিতে প্রায় ৫০০ পরিবার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কাপ্তাই উচ্চবিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩ জন সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এদিকে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসন পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/ঝুলন/এমকেএন






