ক্রীড়া ডেস্ক: লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের খেসারত এবং মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবেরের অতিমানবীয় বীরত্বে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র হাইভোল্টেজ ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ জুড়ে একের পর এক আক্রমণ করেও মিসরের গোলপোস্টের ‘দেয়াল’ ভাঙতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই কিছুটা এলোমেলো ফুটবল খেলে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে মাঝমাঠে একাধিক ভুল পাস এবং বল হারানোর খেসারত দিতে হয় তাদের ম্যাচের ১৫ মিনিটেই।
শর্ট কর্নার থেকে দারুণ এক আক্রমণ সাজায় মিসর। বল পেয়ে চমৎকারভাবে বক্সে ক্রস বাড়ান মারওয়ান আত্তিয়া।
সেখানে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে বাতাসে পরাস্ত করে নিখুঁত টাইমিংয়ে লাফিয়ে ওঠেন ইয়াসের ইব্রাহিম। তার বুলেট গতির এক হেডে বল জড়িয়ে যায় দূরের পোস্টে।
আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেসের কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। ১-০ গোলে লিড নেয় আফ্রিকান পরাশক্তিরা।
পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। মিসরের হাসান বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়কে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিতে একদমই দেরি করেননি।
ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া মেসির শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিসরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের। মেসির মনের কথা যেন আগেই পড়ে ফেলেছিলেন শোবের; নিখুঁত টাইমিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচিয়ে দেন নিশ্চিত গোল। শোবেরের এই অতিমানবীয় সেভে হতাশায় পোড়ে আর্জেন্টিনা।
এই পেনাল্টি মিসের মাধ্যমে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাসের জন্ম দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপের মঞ্চে এ নিয়ে মোট ৮টি পেনাল্টি নিলেন মেসি, যার মধ্যে ৪টিই মিস! চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস (এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মিস করেছিলেন)। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একই আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন এলএমটেন।
পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে সমতায় ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধের বাকিটা সময় একের পর এক আক্রমণ করে গেছে, কিন্তু প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মিসরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের এবং গোলপোস্ট।
২৮ মিনিট: মিসরীয় ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে বক্সে আসা একটি চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়েছিলেন আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। তার নেওয়া হেডটি পোস্টের মাঝ বরাবর জালের দিকেই যাচ্ছিল। কিন্তু দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে দারুণ এক সেভ করে এবারও আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন শোবের।
আজ ভাগ্যটাও যেন আর্জেন্টিনার সঙ্গে ছিল না। ৩১তম মিনিটে বক্সের বেশ কিছুটা দূর থেকে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মিসরীয় গোলকিপারকে পরাস্ত করলেও তার সেই বজ্রবিদ্যুৎ গতির শটটি এবার সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৩৯ মিনিটে মিসরের বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে গোলপোস্টের মাঝ বরাবর নিচু শট নিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু আজ যেন গ্রহের সেরা ফর্মে আছেন শোবের। শেষ মুহূর্তের এক দুর্দান্ত ও অবিশ্বাস্য সেভে এবারও আর্জেন্টিনাকে গোলের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে মিসর।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





