ক্রীড়া ডেস্ক: সর্বশেষ ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোদের হাত ধরে পঞ্চম বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর কেটে গেছে ২৪ বছর, কিন্তু আর একবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি সেলেসাওরা।
এবারের বিশ্বকাপের মঞ্চে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য অর্থ্যাৎ ‘মিশন হেক্সা’ নিয়েই ২০২৬ আসরে পা রেখেছিল ব্রাজিল। তবে সেই স্বপ্ন ভাঙ্গতেও বেশি সময় লাগেনি। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর মধ্য দিয়ে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে শিরোপাহীন থাকার হতাশাজনক অধ্যায় পূর্ণ করল তারা।
২০০২ সালের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে নেমেছে ব্রাজিল। কিন্তু ২০০৬, ২০১০, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬ এই পাঁচ আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। আর ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয় এখনও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে আছে।
ম্যাচ শেষে জাতীয় দল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র। তার পাশাপাশি বয়সের বাস্তবতায় আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলারের জন্যও ২০২৬ বিশ্বকাপই হয়ে থাকতে পারে শেষ বিশ্বমঞ্চ। ৩৪ বছর বয়সী নেইমারের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে, নিজের দেশের মাটিতে। সেই আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে চোটে ছিটকে যাওয়ায় জার্মানির বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৭-১ গোলের সেমিফাইনাল হারে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, আর ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করেও টাইব্রেকারে বিদায়ের হতাশা সঙ্গী হয়। তখনই তিনি এটিকে নিজের সম্ভাব্য ‘লাস্ট ড্যান্স’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে পেলের মতো চারটি বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি গড়লেও দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েও অধরাই থেকে গেল বিশ্বকাপ শিরোপা।
অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোও জাতীয় দলের বিদায়ের খুব কাছাকাছি। টানা তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। চলতি আসরে শুরুতে একাদশে না থাকলেও ওয়েসলির চোটের পর নিয়মিত খেলেছেন। তবে ২০৩০ বিশ্বকাপের সময় তার বয়স হবে ৩৮ বছর, ফলে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।
ব্রাজিলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারও টানা তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ২০৩০ সালে তার বয়স হবে ৩৭ বছর। যদিও গোলরক্ষকদের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নজির রয়েছে, তবু ব্রাজিলের ফুটবলে সেই সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তাই তার বিশ্বকাপ অধ্যায়েরও এখানেই ইতি ঘটতে পারে। একইভাবে তৃতীয় গোলরক্ষক ওয়েভারটনের বয়স পরবর্তী বিশ্বকাপের সময় হবে ৪২ বছর, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।
রক্ষণভাগের আরেক অভিজ্ঞ মুখ মার্কুইনহোসও সম্ভবত শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেললেন। পিএসজির অধিনায়ক টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেললেও জাতীয় দলের হয়ে শিরোপার স্বাদ পাননি। ২০৩০ সালে তার বয়স হবে ৩৬ বছর। একইভাবে দুই বিশ্বকাপ খেলা অ্যালেক্স সান্দ্রোর বয়স তখন হবে ৩৯ বছর, ফলে তার ফেরার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
মাঝমাঠে কাসেমিরোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। কোচ কার্লো আনচেলত্তির আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি তার গতি নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। ২০৩০ বিশ্বকাপের সময় তার বয়স হবে ৩৮ বছর। একই বাস্তবতা প্রযোজ্য ফ্যাবিনহোর ক্ষেত্রেও। লিভারপুলের সাবেক এই মিডফিল্ডারের বয়স তখন হবে ৩৬ বছর।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






