বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নজরুল ইসলাম ওরফে কালু (৪০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গারমুখ এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আশু ড্রাইভারের ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ক্র্যাপ (ভাঙারি) ব্যবসায়ী মো. রাসেল চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম নিজেকে থানচি সেনা ক্যাম্পে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মাজিদ পরিচয় দিয়ে রাসেলকে সেনানিবাসের স্ক্র্যাপ মালামাল বিক্রির প্রলোভন দেখান। মালামাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি আগাম টাকা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী রাসেল জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ক্র্যাপ (ভাঙারি) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কিছুদিন আগে নজরুল ইসলাম তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হিসেবে পরিচয় দেন। পরে সেনা ক্যাম্পের স্ক্র্যাপ মালামাল বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলে আগাম অর্থ চান। সরল বিশ্বাসে তিনি নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে পাঁচ দফায় আরও ৬৫ হাজার টাকা পাঠান। সব মিলিয়ে তিনি অভিযুক্তকে দেড় লাখ টাকা পরিশোধ করেন।
রাসেল আরও বলেন, টাকা নেওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার “আজ দেব, কাল দেব” বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি যেসব বিকাশ ও নগদ নম্বরে টাকা পাঠিয়েছিলেন, সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করেন এবং পরে চকরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, নজরুল ইসলাম কোনো সেনা কর্মকর্তা নন; তিনি আলীকদমে সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবিতে (ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন) চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে কর্মরত।
চকরিয়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই ইমন বলেন, অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে আমরা একাধিকবার তার বাড়িতে গিয়েছি। এছাড়া সামাজিকভাবে বসে বিষয়টি সমাধানেরও চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাকে উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি। পরে ভুক্তভোগীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াস/এমকেএন





