পাহাড়ধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত বান্দরবান, আটকা শতাধিক পর্যটক

বান্দরবান প্রতিনিধি: টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

অবিরাম বৃষ্টিতে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার নদ-নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরবর্তী বসতঘর এবং শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এদিকে আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে পাহাড়ধসের কারণে বান্দরবানের সঙ্গে থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সড়ক থেকে ধসে পড়া মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছেন।

অন্যদিকে আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। লামা-আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কের রেপারপাড়া ও শীবাতলীসহ একাধিক স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও স্থানীয়দের ভ্যানগাড়ি ও নৌকায় করে পারাপার হতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং জরুরি সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী, নাফাখুম ও আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে নদীর পানি ও স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে নদীপথে চলাচল না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া নদীতীর, পাহাড়ের পাদদেশ এবং প্লাবিত সড়কে চলাচল না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস।

জেলা প্রশাসক বলেন, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় থানচির তিন্দু, রেমাক্রী, নাফাখুম ও আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। নদীর পানি ও স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের এসব এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াস/এমকেএন/এসএ

Scroll to Top