রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়নে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রবাসী মোহাম্মদ তানভীর হোসেনের (৩০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, চাচা শ্বশুরের দেওয়া কুৎসিত অপবাদ ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. রফিক বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মরিয়মনগর ইউনিয়নের সওদাগরপাড়ায় তানভীরের শ্বশুরবাড়ি। তাঁর শ্বশুর ইমাম উদ্দিন পেশায় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক এবং অভিযুক্ত চাচা শ্বশুর জসিম উদ্দিন জয়নাব একজন বাবুর্চি।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তানভীরের প্রচণ্ড মাথাব্যথা হলে শাশুড়ি মাতৃস্নেহে তাঁর মাথায় বাম লাগিয়ে দিচ্ছিলেন। এ সময় বাইরে থেকে দৃশ্যটি দেখে চাচা শ্বশুর জসিম উদ্দিন জয়নাব বিষয়টিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি তানভীরের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয় এবং তানভীর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়ের পর গত পবিত্র রমজান মাসে প্রথমবারের মতো নিজের নবজাতক সন্তানের মুখ দেখতে দেশে আসেন তানভীর। কিন্তু মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন আগে অসুস্থতায় তাঁর প্রথম সন্তান মারা যায়। সন্তান হারানোর গভীর শোকে তিনি আগে থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। এরই মধ্যে প্রবাসে ফেরার প্রস্তুতির সময় চাচা শ্বশুরের এমন অপবাদ তাঁর ওপর আরও গভীর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। স্বজনদের ধারণা, সন্তান হারানোর বেদনা ও সামাজিক অপমানের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহননের মতো মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নেন।
গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের কর্ণফুলী নদীর চরের একটি গাছ থেকে তানভীরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কিছুক্ষণ আগে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাসে লেখেন, আমার মৃত্যুর কারণ আমার চাচা শ্বশুর। এত বড় অপবাদ না দিলেও পারতে। সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন। ভালো থেকো প্রিয় বউ। সবকিছু শেষ আমার।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন জয়নাবের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে নিহতের শ্বশুর ইমাম উদ্দিনের অবস্থান। তিনি নিজের জামাতার মৃত্যুকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তিনি প্রকাশ্যে তাঁর আপন ভাই জসিম উদ্দিন জয়নাবের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, গত ২৭ জুন নিহতের বাবার দায়ের করা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফেসবুক স্ট্যাটাস, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন জয়নাব পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন





