কাঠগড়ায় নয়, অ্যাম্বুলেন্সে শুয়েই হাজিরা দিলেন সাবেক এমপি ফজলে করিম!

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলার আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে শুয়েই কাটিয়ে দেন পুরো সময়। আর এজলাসে নিজ মক্কেলের অনুপস্থিতিতেই শুনানি চালিয়ে যান তার আইনজীবী।

আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালে ট্রাইব্যুনালে এমন চিত্র দেখা গেছে। যদিও নিয়মানুযায়ী মামলার আসামিদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

বিচারকাজ শেষে বেলা আড়াইটার দিকে ফজলে করিমকে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে অ্যাম্বুলেন্সটি। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই মামলায় মোট আসামি ২২ জন। এর মধ্যে ফজলে করিম চৌধুরীসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার আছেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ অপর ১৭ আসামি পলাতক।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থার কারণে করিম চৌধুরী বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। আজ তাকে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালে নেয়া হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, বিচারকাজকে বিলম্বিত করতেই গুরুতর অসুস্থতার মতো এমন অজুহাত সামনে এনেছেন ফজলে করিম। চাইলেই তিনি কাঠগড়ায় হাজির হতে পারতেন। কেননা স্বাস্থ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী তার অসুস্থতা তেমন গুরুতর নয়। এরপরও তিনি পুরো সময়টা অ্যাম্বুলেন্সে কাটিয়েছেন। তবে আইন অনুযায়ী যেকোনো আসামি অসুস্থ বা অন্য কোনো কারণে এজলাসে উপস্থিত না থাকলেও তার আইনজীবী মামলার কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

আসামিপক্ষ বলছে, এপ্রিলের মাঝামাঝিতে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়ার পথে আসামি বহনকারী ভ্যানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। এতে ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছিলেন ফজলে করিম। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

আজ এই মামলা থেকে ফজলে করিমের অব্যাহতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তার আইনজীবী। তবে ফজলে করিমের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়নি। আগামী রোববার ফজলে করিমের অব্যাহতির পক্ষে আবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় ২২ আসামির বিরুদ্ধে ছয়জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যা করা; দ্বিতীয় অভিযোগ ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা করা এবং তৃতীয় অভিযোগে শতাধিক মানুষকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top