চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং যুগোপযোগী অটোমেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি সেবা খাত থেকে সব ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির অবসান ঘটানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
আজ শনিবার (২০ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী কনভেনশন হলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) আয়োজিত ‘বিপিও সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘হোয়ার ট্যালেন্ট মিটস গ্লোবাল অপরচুনিটি’।
দীর্ঘ ২২ বছরের আইনি ও রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপির দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা যে সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েছি, সেই অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের তরুণ প্রজন্ম।
তিনি বলেন, অতীতে দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর তরুণদের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেই প্রতিকূল সময়ে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন ‘বিএনপি মিডিয়া সেল’ গঠন করেন, তখন আমাদের মূল দর্শনই ছিল তরুণদের সত্যের মুখোমুখি করা এবং তাদের জন্য একটি সঠিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে নিয়ে সেন্সরশিপ ও নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা সফলভাবে সত্যের ন্যারেটিভ তুলে ধরেছিলাম।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের আধুনিকায়নে গৃহীত নানা বৈপ্লবিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনসাধারণের ভোগান্তি দূর করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ সেবা এখন পুরোপুরি অনলাইন ও অটোমেটেড করা হয়েছে। নাগরিকরা এখন ঘরে বসেই ‘ভূমি’ (BHUMI) অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাক্স প্রদান ও নামজারিসহ (মিউটেশন) বিভিন্ন আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করতে পারছেন।
পাশাপাশি, যারা অনলাইনে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য দেশব্যাপী ৮৯৩টি ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী অত্যন্ত স্বল্প খরচে নাগরিকরা অনলাইন সেবা পাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে ‘জিও ফেন্সিং’ (Geo-fencing) প্রযুক্তির যুগান্তকারী ব্যবহারের কথা জানিয়ে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, আমরা ‘ভূমি দৃষ্টি’ নামে একটি অ্যাপের পাইলটিং শুরু করেছি। এর মাধ্যমে দেশের যে-কোনো প্রান্তের ভূমি কর্মকর্তা অফিস চলাকালীন (সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা) কর্মস্থল ত্যাগ করলে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল সংকেত চলে আসবে। এই প্রযুক্তির ফলে অত্যন্ত কম খরচে প্রান্তিক পর্যায় থেকে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে।
দেশের ফ্রিল্যান্সার ও তরুণদের মেধার ভূয়সী প্রশংসা করে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী। প্রাতিষ্ঠানিক বড় সহযোগিতা ছাড়াই তারা স্বশিক্ষিত হয়ে ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে বিশ্ব দরবারে নিজেদের স্থান করে নিয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে যদি এই তরুণদের আরো কিছু বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাঙ্ক্ষিত সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও আইটি পেশাজীবীরাই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী আইটি খাতের টেকসই উন্নয়নে মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চাহিদা ও তরুণদের সেন্টিমেন্ট বুঝে বেসরকারি খাতকে সাথে নিয়ে নীতিমালা বা পলিসি মেকিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি মো. তানজিরুল বাসার, অর্থ সম্পাদক মো. আমিনুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুসনাদ-ই-আহমদ, পরিচালক আবু দাউদ খান, পরিচালক আব্দুল কাদের এবং পরিচালক সায়মা শওকত।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





