বর্জ্যকে সম্পদে রূপ দিতে আগ্রহী চসিক মেয়র শাহাদাত

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে নয়, বরং সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে জাপানের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) নগর ভবনে জাপানের জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে জানানো হয়, বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধিরা জানান, জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জাপান-বাংলাদেশ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাপান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক সম্মতিও পাওয়া গেছে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হলে পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই বর্জ্য থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলারও একটি কার্যকর পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বাংলাদেশের বাস্তব চাহিদার সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এজন্য দুই দেশের সরকারের সহযোগিতায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জাপানি প্রতিনিধিদলে ছিলেন গেন তাকাহাসি, কেন্টা ওহাসি ও ভাস্কর সাহা। এ সময় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top