যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানো হচ্ছে ৬১ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজ

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে আমদানি করা ৬১ কোটি টাকা মূল্যের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আনোয়ারা উপকূলে অবস্থান করলেও সেটি আমদানিকারকের ইয়ার্ডে ভেড়ানো হচ্ছে না। জাহাজটির নাম ‘মেমেই’। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজটি সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহণ করত। জাহাজটির ধারণক্ষমতা ৪৪ হাজার ৮০০ টন। এটির মালিক ছিল হংকং-ভিত্তিক কোম্পানি এভার শাইনিং লিমিটেড।

সূত্র জানায়, এভারশাইনিং কোম্পানির জাহাজটি স্ক্র্যাপ হিসাবে কিনে নেয় বাংলাদেশের চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। জাহাজ ভাঙা শিল্পের সঙ্গে জড়িত এই প্রতিষ্ঠান স্ক্র্যাপ জাহাজ কিনে শিপইয়ার্ডে ভেঙে তা বাজারজাত করে। জাহাজটি ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। আমদানির ৬ দিন পর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জানতে পারে এটিকে ২৮ মে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে ইরানের পেট্রোলিয়াম পরিবহণের কারণে কালো তালিকাভুক্ত করে। ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসাবে একই কোম্পানির ‘ফ্লোরা’ নামে আরও একটি জাহাজকেও একইভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। মার্কিন নীতির অংশ হিসাবে নির্বাহী আদেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে সূত্র জানায়। নিষেধাজ্ঞা আরোপ হওয়ার কারণে কালো তালিকাভুক্ত জাহাজ ‘মেমেই’কে শিপইয়ার্ডে ভেড়ানোর ছাড়পত্র দেয়নি চট্টগ্রাম বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো। ফলে বিপুল টাকায় কেনা জাহাজটি রপ্তানিকারক তথা বিক্রেতার কাছে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

এসএন করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, জাহাজটির ক্রয়মূল্য ছিল ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ কোটি টাকা। জাহাজটি দেশে পৌঁছার ৬ দিন পর তারা জানতে পারেন এটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যখন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমদানি চুক্তি হচ্ছিল তখন এই নিষেধাজ্ঞা ছিল না। যেহেতু নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাই এটি আর শিপইয়ার্ডে ভেড়ানোর সুযোগ নেই। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তথা জাহাজের মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top