এবারও মাইর খাইছে চামড়া ব্যবসায়ীরা, ৩৫০ টাকায় কিনে ১৫০ টাকায় বিক্রি!

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের কথা বলা হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।

এবারও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে চামড়া বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার দাম বাড়ালেও ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে সেই দামে চামড়া কেনার কোনো নিশ্চয়তা তারা পাননি। ট্যানারি মালিকরা গত বছরের তুলনায় কম দাম দিচ্ছেন। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কম দামে চামড়া কিনতে হচ্ছে।

অনেক চামড়া বিক্রেতার অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় তারা প্রতি চামড়ায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম পেয়েছেন। পাশাপাশি আগের বছরের মতোই ব্যবসায়ীরা ছাগলের চামড়া কেনায় তেমন আগ্রহ দেখাননি।

বৃহস্পতিবার বিকালে বোয়ালখালী থেকে আতুরার ডিপো কাঁচা চামড়ার আড়ত এসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ী জাবের মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা ২১০ পিস চামড়া কিনেছি সাড়ে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ টাকা করে। কিন্তু বাজারে মাইর খাইছি। এখন ১৫০-২০০ টাকা করে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রচুর টাকা লস হয়ে গেল আমাদের।’

আতুরার ডিপো এলাকার কাঁচা চামড়ার আড়ত ঘুরে দেখা যায়, ছোট আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। মাঝারি আকারের চামড়ার দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

আর বড় আকারের চামড়াও বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায়। অথচ গ্রামের হাট কিংবা বাসা-বাড়ি থেকে এসব চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীকে বড় চামড়ার জন্য ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে।

কাঁচা চামড়ার আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, চামড়া কিনে পরিষ্কার করে লবণ দিতে হয়। সব মিলিয়ে একটি লবণযুক্ত চামড়া কারখানা পর্যন্ত পৌঁছাতে খরচ পড়ে প্রায় ৪৫০ টাকা। এখন মৌসুমি ব্যবসায়ী যে দামে চামড়া কিনেছে সে দামে নিতে পারছি না।

চট্টগ্রামের পুরনো চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর ঈদের সময় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে বাজারে নামেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দামের ধাক্কায় অনেকেই লোকসানের বোঝা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। ফলে জাতীয় সম্পদ হিসেবে পরিচিত কোরবানির চামড়ার বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top