মহেশখালীতে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণচেষ্টা, বাধা দেওয়ায় দম্পতিকে কুপিয়ে জখম

মহেশখালী প্রতিনিধি: কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধারঘোনা গ্রামে গভীর রাতে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা এবং বাধা দেওয়ায় স্বামী-স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ইউনিয়নের আঁধারঘোনা পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—আঁধারঘোনা এলাকার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ কামরুল হাসান (৩০) এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আঁখি (২৩)। আটক অভিযুক্ত মোহাম্মদ হায়াত (২৩) একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘হাইত্তা চোরা’ নামে পরিচিত বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে হায়াত কৌশলে কামরুল হাসানের বসতঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ঘরে থাকা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আঁখিকে একা পেয়ে তিনি শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান। বিষয়টি টের পেয়ে আঁখি ও তাঁর স্বামী বাধা দিলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র ও ছুরি দিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখম হয় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় কামরুল হাসান ও তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটগাঁ নিউজ/সজিব/এমকেএন

Scroll to Top