চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে ‘জুলাই গ্রাফিতি’ উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
আজ সোমবার (১৮ মে) রাতে করপোরেশন এলাকা সংলগ্ন সড়কে তিনি ‘৩৬শে জুলাই’ লিখে এ গ্রাফিতির উদ্বোধন করেন।
এসময় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে আমরা একাত্ম। এটা আমরা অন্তরে ধারণ করি। জুলাইয়ের গ্রাফিতে আঁকতে অতীতেও আমি আর্থিকভাবে সহায়তা করেছি। এখনও যদি কেউ জুলাইয়ের নান্দনিক গ্রাফিতি আঁকতে চায় আমি আর্থিকভাবে তাদের সহযোগিতা করব।’

এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের পিলারে আঁকা জুলাইয়ের গণআন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্দেশে গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। দায়ী করেন চসিক মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনকে। প্রতিবাদে রোববার রাতে নগরীর টাইগার পাস এলাকায় চসিক কার্যালয়ের প্রবেশমুখের সামনে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পরস্পর বিরোধী স্লোগান দিয়ে অবস্থান নেন। যা রাত ১টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
পরে আজ সোমবার দুপুরে এনসিপির পক্ষ থেকে ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। এরই প্রেক্ষিতে এদিন সকালে নগরীর জিইসি থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে নগর পুলিশ।
এদিকে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে জারি করা সিএমপি কমিশনারের গণবিজ্ঞপ্তিকে ‘শেখ হাসিনা স্টাইলের’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করছেন এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয়।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতাকে যেভাবে দমন করতে চেয়েছিল, বিএনপিও এখন একই কায়দায় প্রশাসনকে দিয়ে ছাত্র-জনতাকে দমন করতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করিয়েছে।’ বিষয়টি নিয়ে বিবৃতিও দেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।
চলমান পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুরে চসিক কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে নান্দনিক গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে বলে জানান। এজন্য সিটি করপোরেশন যদি টাকা দিতে না পারে, তাহলে নিজের পকেটের টাকায় এ কাজটি করার কথাও বলেছেন তিনি।
মেয়র বলেন, ‘আজ অনেকে গ্রাফিতি বা নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করলেও আহত জুলাই যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের কষ্টের কথা খুব কম মানুষই ভাবছে। গত ৩ আগস্ট আমার নিজের বাড়িতে আগুন ও বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। সেখানে গ্যাস চেম্বার তৈরি করে হামলার ঘটনাও ঘটে এবং বৃদ্ধা মাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ড্রাইভারের সাহসিকতায় পুরো ভবন পুড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।’
তিনি বলেন, ‘৪ আগস্ট আহত জুলাই যোদ্ধাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হলে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে আহতদের ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। তাই জুলাই আন্দোলনের সময় তরুণরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা শুধু মুখে বললে হবে না, বরং এটাকে অন্তরেও ধারণ করতে হবে।’
ঠিক একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা উপক্ষো করে দুপুরে ফের টাইগারপাস এলাকায় নতুন করে গ্রাফিতি অঙ্কনের জন্য যান বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণী যারা অধিকাংশ ছিল শিক্ষার্থী। তাদের হাতে ছিল রঙের বালতি আর তুলি। কিন্তু সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের দাঁড়াতেই দেননি। কয়েকজন রঙ-তুলি নিয়ে সড়কে বসে পড়লে তাদেরও জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফায় বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার বেশকিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে। তাদের ছাড়াতে কমিশনার কার্যালয়ে যেতে দেখা গেছে এনসিপি নেতৃবৃন্দকে।কিছু সময় পর তাদের ছেড়েও দেওয়া হয়।
পরে সোমবার সন্ধ্যায় জারি করা সিএমপির গণবিজ্ঞপ্তিও প্রতাহার করে নেয় নগর পুলিশ।
এ ব্যাপারে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, মূলত অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গণবিজ্ঞপ্তিটা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। নগরীর দেয়ালে দেয়ালে জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কনের বিষয়টি নাগরিক অধিকার। এই ধরনের শিল্পচর্চায় পুলিশের কোনো বাধা নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। যে কেউ চাইলে এই ধরনের গ্রাফিতি আঁকতে পারবেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





