অগ্রণী ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ: সাবেক কর্মকর্তার ৮ বছরের কারাদণ্ড

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের বহদ্দারহাট বিটি শাখা থেকে জাল রেমিট্যান্স রেফারেন্স নম্বর ও ভুয়া কম্পিউটারাইজড রিসিট ব্যবহার করে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর তিন আসামিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফজলে আজিম খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার মাস্টারপাড়া কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা এবং অগ্রণী ব্যাংকের বহদ্দারহাট বিটি শাখার সাময়িক বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা।

খালাস পাওয়া অপর তিনজন হলেন— মোহাম্মদ রেজাত হোসেন, হামদে রাব্বি মুন্না ও রিপায়ন বড়ুয়া।

দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি জানান, মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ফজলে আজিমকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

রায়ের সময় ফজলে আজিম পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে বহদ্দারহাট বিটি শাখায় বৈদেশিক রেমিট্যান্স বিতরণের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ফজলে আজিম ভুয়া রেমিট্যান্স রেফারেন্স নম্বর তৈরি করেন। পরে জাল কম্পিউটার জেনারেটেড রিসিট ও ট্রান্সফার ভাউচার ব্যবহার করে ব্যাংকের এফডিডি (আলরাজী) খাত থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ ২০১৯ সালের ২০ মার্চ চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলে ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top