আনোয়ারায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

আনোয়ারা প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় হালিমা আক্তার মুন্নি (২১) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।

রবিবার (১০ মে) সকালে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পশ্চিম বরৈয়া গ্রামের নবী হোসেন মেম্বারের বাড়িতে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটে। ভোররাতে নিহতের স্বামী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে হালিমার পরিবারকে জানান, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহত হালিমা আক্তার মুন্নি উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চন মুন্সির বাড়ির মো. ইসহাকের মেয়ে। তার এক বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

পরিবার জানায়, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর পারিবারিকভাবে হালিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসাও করা হয়। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই হালিমার ওপর নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ পরিবারের। একপর্যায়ে নির্যাতনের কারণে তিনি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

নিহতের বাবা মো. ইসহাক বলেন, কয়েক দিন আগে শ্বশুরের অসুস্থতার খবর পেয়ে আমার মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে যায়। আজ সকালে জামাই ফোন করে জানায়, হালিমা আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, গলায় রশি থাকলেও তার পা মাটির সঙ্গে লাগানো ছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও ছিল। আমার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এক গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তা তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন

Scroll to Top