অবৈধ মাটি কাটার ‘মৃত্যুফাঁদে’ ঝরে গেল দুই নিষ্পাপ প্রাণ, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে মাটির গর্তে পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে নীরবতা আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে পুরো পরিবেশ।

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাকি আক্তার ও সানজিদা আক্তার নামের দুই শিশু বাড়ির পাশেই খেলছিল। খেলতে খেলতেই অসাবধানতাবশত তারা মাটির গভীর গর্তে পড়ে যায়। সেখানেই অকালে ঝরে যায় তাদের দুটি নিষ্পাপ প্রাণ।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পরিবারটির ওপর নেমে এসেছে অসহনীয় শোক। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন—এই মৃত্যুর জন্য দায়ীদের কি আদৌ বিচার হবে?

উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল সকাল প্রায় ১১টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে কলিম বাপের বাড়ির পাশের এলাকায় খেলতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় অবাধে মাটি কাটা ও বিক্রির ফলে তৈরি হচ্ছে গভীর গর্ত, যা দিন দিন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে হারুয়ালছড়ি, বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, পাইন্দং, সুয়াবিল, কাঞ্চননগর, লেলাং, নানুপুর গামারীতলী, খিরাম লম্বা টিলা ও ধর্মপুর ইউনিয়নে এই প্রবণতা বেশি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত চার মাসে ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকায় মাটি ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। শুধু মার্চ মাসেই আদায় করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, মাটি ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

দুটি নিষ্পাপ প্রাণের বিনিময়ে আবারও সামনে এলো অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার নির্মম চিত্র। এখন প্রশ্ন—এই মৃত্যুর দায় নেবে কে, আর বিচার কত দ্রুত মিলবে?

চাটগাঁ নিউজ/আনোয়ার/এমকেএন

Scroll to Top