আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ৩৫তম দিনে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা সাফল্যের দাবি করেছে ইরান।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তেহরান জানায়, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ও আঞ্চলিক জলসীমার কাছে মহড়া চালানো মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক পালটা অভিযান চালানো হয়েছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান এবং তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানি গণমাধ্যম এ ঘটনাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রদেশে সফল প্রতিরক্ষা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ডিফেন্স ফোর্স খোমেইন ও জানজান অঞ্চলের আকাশে দুটি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করেছে।
এছাড়া ইসফাহানের সংবেদনশীল আকাশসীমায় উড্ডয়নরত যুক্তরাষ্ট্রের দুটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বুশেহর উপকূলের কাছে একটি ইসরায়েলি হারমেস ড্রোন ধ্বংস করার কথাও বলা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করে, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শতভাগ সফলতার সঙ্গে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে আইআরজিসি জানায়, মধ্য ইরানের আকাশে একটি উন্নতমানের মার্কিন যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের পার্বত্য এলাকায় পাইলটের সন্ধানে অনুসন্ধান অভিযান চলছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইলট হয়তো বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বের হতে পারেননি।
একই সময়ে ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীও আরেকটি সাফল্যের দাবি করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এ-১০ ওয়ারথগ আক্রমণ বিমান তাদের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, শনাক্ত হওয়ার পরপরই বিমানটিতে আঘাত হানা হয় এবং সেটি পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।
উল্লেখ্য, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যৌথ বিমান হামলা চালিয়ে আসছে।
ইরানের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





