আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের শান্তি আলোচনার দাবি করলেও ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতভর রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাব্রিজ, ইস্পাহান ও কারাজ শহরেও হামলা চালানো হয়। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুটি গ্যাস স্থাপনা ও একটি পাইপলাইনে আঘাত হানে এসব হামলা।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ইসফাহানের কাভেহ স্ট্রিটে গ্যাস প্রশাসনিক ভবন ও গ্যাস চাপ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খোররামশাহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে।
ইরানের জরুরি সেবা প্রধান জাফর মিয়াদফার জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২০৮ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে মার্কিন হামলায় ১৬৮ জন নিহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে। মোট বেসামরিক নিহতের সংখ্যা ১,৫০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান সরকার।
একদিকে হামলা চললেও অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, মিসর, পাকিস্তান ও ওমানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
তবে ইরান আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দাবি নাকচ করেছে। পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটির সদস্য ইসমাইল কওসারি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার আগে “বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে চিন্তা করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘এটি প্রথমবার নয় যে তারা আলোচনার বিষয়ে মিথ্যা বলছে। তাদের উদ্দেশ্য বিভ্রান্তি তৈরি করা।’
এর আগে সোমবার (২৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের পূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে গত দুই দিনে ইরানের সঙ্গে ‘গভীর, বিস্তারিত ও গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে।’
তিনি জানান, আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তিতে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক হামলা আগামী ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়াও এয়ার ফোর্স ওয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, (ইরানের সাথে) আলোচনা ‘খুবই কার্যকর’ হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়ায় তার উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার যুক্ত ছিলেন।
আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেখা যাক আলোচনা কোন দিকে যায়। আমাদের মধ্যে ঐকমত্যের বড় জায়গা রয়েছে, এবং আমি বলব যে প্রায় সব বিষয়েই আমরা একমত হয়েছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য দুই দেশ ১৫টি দফা নিয়ে আলোচনা করছে, যার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন ‘এক, দুই ও তিন নম্বর’ দফা, বলেন ট্রাম্প।
ইরানের ‘শাসনব্যবস্থার বড় পরিবর্তন’ দেখতে চান উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির’ সাথে কথা বলছে, তবে তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নন।
এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
বাঘাইয়ের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধু দেশের কাছ থেকে বার্তা পাওয়া গেছে।’
এছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির পুনরাবৃত্তি করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
এক এক্স বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি, এবং আর্থিক ও তেল বাজারকে প্রভাবিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকা পড়েছে তা থেকে বাঁচতে ভুয়া খবর ব্যবহার করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে গত শনিবার (২১ মার্চ) ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।এই সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় শেষ হতে চলছিল। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল ট্রাম্প।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






