চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য দগ্ধ সকলকে ঢাকায় নেয়ার পথে রাণী আক্তার (৪০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩১ মিনিটের দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকে ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসার ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফ্ল্যাটে।
দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, আহতদের সবারই শ্বাসতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, তিনজনের শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। একজনের ৮০ শতাংশ এবং দুজনের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া দুই শিশু ২৫ শতাংশ ও আরেক শিশু ২০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশের বেশি এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। যেকোনো সময় তাদের আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ পাঠানো হচ্ছে। স্বজনরা জানান, চট্টগ্রামে আইসিইউ সুবিধা সীমিত হওয়ায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে তাদের ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।
দগ্ধরা হলেন—শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫) ও রানী আক্তার (৪০)।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের তৃতীয় তলার লিফটের দরজা ভেঙে যায় এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলার লিফটের দরজা বাঁকা হয়ে পড়ে। এছাড়া বিভিন্ন তলার ফ্ল্যাটের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুরো ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন/জেএইচ






