জাহিদ হাসান : অর্থমন্ত্রী হচ্ছেন কে? যে সরকারই ক্ষমতাই আসুক এক সময় এই প্রশ্ন আসলেই সবার চোখ চলে যেত সিলেটে। কারণ অর্থমন্ত্রীর পদটা দীর্ঘদিন ধরেই দখলে রেখেছিলেন সিলেট থেকে বারবার নির্বাচিত হওয়া শাহ এস এম কিবরিয়া, সাইফুর রহমান ও আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে এবার সিলেট নয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ আসন (বন্দর-পতেঙ্গা) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণ করেছেন । ফলে প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল চট্টগ্রাম। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের প্রথম নারী অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন চট্টগ্রামের কন্যা ওয়াসিকা আয়শা খান।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর পরেই বিকাল ৪টায় শপথগ্রহণ করেন মন্ত্রীসভার সদস্যগণ। পরে সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
এদিকে আমির খসরুর মন্ত্রিত্ব পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত চট্টগ্রাম বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। যদিও অনুমিতই ছিল- তারেক রহমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সাবেক এই বাণিজ্য মন্ত্রী।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর চাটগাঁ নিউজকে বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত প্রথমবারের মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমাদের চাটগাঁর গর্ব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি প্রকৃত অর্থেই একজন অর্থনীতিবিদ। সুতরাং দেশের অর্থনীতির চাকা কিভাবে সচল রাখতে হয় সেটি ওনি খুব ভালো করেই জানেন।
কেন্দ্রিয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সমন্বয়ক এম এ হাশেম বলেন, দেশ স্বাধীনের পর চট্টগ্রাম থেকে এমন একজন মানুষকে আমরা অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি যিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে জয় পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৯৯ ভোট পান।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, আমীর খসরুর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৯১ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু তাহের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ৪ ভোট।
সর্বশেষ ২০০১ সালে ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকার গঠন করেছিল। ওই মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় বিভিন্ন পদে আটজন স্থান পেয়েছিলেন।
২০০১ সালের মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম থেকে স্থান পাওয়া সবাই রাজনীতির অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ বিএনপি জ্যেষ্ঠ নেতা ছিলেন। ওই সময়ে মন্ত্রিপরিষদে স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে নির্বাচিত এম মোরশেদ খান, চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নির্বাচিত আবদুল্লাহ আল নোমান, সীতাকুণ্ড আসন থেকে নির্বাচিত এল কে সিদ্দিকী, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও বাঁশখালী আসন থেকে নির্বাচিত আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।
এ ছাড়া পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ ছিলেন হাটহাজারী থেকে নির্বাচিত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। বর্তমানে তাদের মধ্যে বেঁচে নেই আবদুল্লাহ আল নোমান, এল কে সিদ্দিকী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। এম মোরশেদ খান দেশের বাইরে ও মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বিরত ছিলেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





