চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪ সহ ৩০টি আসনের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৩০টি আসনে ব্যাপক কারচুপি, জালিয়াতি ও অনিয়ম হয়েছে। এসব আসনে পুনর্গণনা ও ফল স্থগিতের দাবি জানিয়ে দলটি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে এবং প্রয়োজনে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যে ৩০টি আসনে পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছে সেগুলো হলো পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট- ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-১, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১ (রিকশা), ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ- ৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩ (রিকশা), ঢাকা-১৭, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ভোট পুনর্গণনা হলে অনেক আসনের ফল পাল্টে যাবে; এর মধ্যে ঢাকা-৮, ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৩, ঢাকা-৬ আসনও রয়েছে। ভোটের ফলাফলকে ম্যানিপুলেট করে অন্যকে বিজয়ী করা হয়েছে এবং ফলাফল জালিয়াতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।
প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে ৬৮টি আসন পেয়েছে এবং জোটগতভাবে পেয়েছে ৭৭টি আসন। তরা সংসদের বিরোধী দল হতে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, তারা আপাতত ৩০টি আসনের অভিযোগ পেয়েছেন। আরও কিছু আসনে পোলিং সেন্টার থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ ফল বদলে দেওয়া, সন্ত্রাস, ম্যানিপুলেশন, জামায়াত প্রার্থীদের ‘রহস্যজনক’ কারণে ফেল করিয়ে দেওয়া, সর্বোপরি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়েরর দাবি, ‘প্রশাসনের একদল এবং নির্বাচন কমিশনের একদল লোক’ এই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।
জুবায়ের বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিল। নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বহু স্থানে এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ভোট গণনায় গরমিল, ফল ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিছু আসনে ভোর পাঁচটার দিকে ফল দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও দ্রুত ফল ঘোষণা করা হয়েছে— যা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা জানান, যেসব আসনে পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার ভোটের ব্যবধানে ফল হয়েছে, সেসব জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে দলটি। স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





