বিএনপিকে দাফন করার সময় হয়েছে, তাদের দেশ চালানোর সামর্থ্য নেই: অলি

আনোয়ারা প্রতিনিধি: লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, আমি এবং জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাকে অস্বীকার করা যাবে না। দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। কিন্তু যখন বুঝলাম বিএনপি আর বেশিদিন টিকবে না এবং তাদের চিকিৎসা দরকার, তখনই দল ছেড়ে দিয়েছি। এখন বিএনপিকে দাফন করার সময় হয়েছে। তাদের দেশ চালানোর সামর্থ্য নেই।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি করবে, টেন্ডারবাজি করবে, চট্টগ্রাম বন্দর দখল করবে এবং ব্যাংক লুট করবে।

১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রসঙ্গে কর্নেল অলি বলেন, অনেকে বলে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের স্বাধীনতা হরণ করা হবে এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হবে। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, কারও ব্যক্তিগত কিংবা ধর্মীয় স্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করব না। বরং যারা নিজের ধর্ম ঠিকমতো পালন করে না, তারাই অন্যের ধর্মে হস্তক্ষেপ করে।

নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত যা করার করে নেন। ১২ তারিখ এ দেশের জনগণ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আপনাদের ভাতের হোটেল বন্ধ করে দেবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে আনোয়ারা। কিন্তু সে অনুযায়ী এখানে উন্নয়ন হয়নি। কারখানা স্থাপন হলেও শিক্ষিতরা চাকরি পাচ্ছে না। এখানে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা নেই। যুবকদের বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোর জন্য কোনো ট্রেনিং সেন্টার নেই।

তিনি আরও বলেন, এই আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় হলে এসব পরিকল্পনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।

জনসভায় দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা ইসমাঈল হাক্কানীর সভাপতিত্বে এবং আনোয়ারা উপজেলা ও কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবুল হাসান খোকা ও নুরউদ্দিন জাহাঙ্গীরের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, নেজামে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মাওলানা জিয়াউল হুসেইন জিয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা খেলাফত মজলিসের আমীর হাফেজ মাহবুবুর রহমান হানিফ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি জুনু মিয়া, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রহিম, খেলাফত মজলিস আনোয়ারা উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুফতি ইমরান ইসলামাবাদীসহ ১১ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন

Scroll to Top