জামায়াতের ইশতেহারে যে ২৬ বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে 

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার ও ১০টি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা বলেছে। জাতীয় স্বার্থে আপসহীনতা, যুবকদের ক্ষমতায়ন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত কাঠামো নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি বিষয় এতে উঠে এসেছে।

আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব বিষয় জানিয়েছে জামায়াত।

জামায়াতের ঘোষিত ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গঠনই দলটির মূল লক্ষ্য। এই রূপরেখায় রাষ্ট্র পরিচালনায় যুবকদের ক্ষমতায়ন ও প্রাধান্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ইশতেহারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত করা এবং সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জামায়াত জানিয়েছে, প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক স্মার্ট সমাজ বিনির্মাণে ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি নিশ্চিত করা হবে।

এ ছাড়াও রাজনৈতিক সংস্কার হিসেবে আনুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিগত সময়ের রাষ্ট্রীয় গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলেও জানায় দলটি।

জামায়াত আরও জানায়, কৃষি বিপ্লব ও শিল্পায়নের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু ভেদাভেদহীন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতি গঠন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা, স্বল্পমূল্যে আবাসন এবং সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করাই এই কর্মসূচির চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে জানিয়েছে তারা।

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্যে বলেছেন, ‘আমরা রাজনীতিতে বলি, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। কিন্তু ৫৪ বছরে সেই স্লোগানের স্বাক্ষর দিতে পেরেছি? এই বৈষম্য ৫৪ বছর আগেও ছিল। ৪৭ থেকে জাতির স্বাধীনতার সূচনা, এরপর বঞ্চনার শিকার হয়ে ৭১। তারপর দফায় দফায় গণ-অভ্যুত্থান। শেষ পর্যন্ত এসে ঠেকেছে চব্বিশে। ২৪-এ খুব সামান্য দাবি ছিল।’

তিনি বলেন, ‘৪৭ না হলে ৭১ হতো না,৭১ না হলে ২৪ পেতাম না। একটি অপরটির সঙ্গে সম্পর্কিত। ইশতেহার কেবল দলীয় কর্মসূচি না, বরং জাতির প্রতি দলের পরিকল্পপনা; এটি একটি জীবন্ত দলিল।’

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top